অনলাইন ডেস্ক | শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 10 বার পঠিত
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানলে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ক্রোয়েশিয়া, স্পেন ও গ্রিসে ছড়িয়ে পড়া এসব আগুনে ঘরবাড়ি, গাড়ি ও বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় পাঁচ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে যাওয়ার পর নতুন করে দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ক্রোয়েশিয়ার পর্যটন শহর ওমিশে প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে বসতি ও বনাঞ্চলের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাছের শহর স্প্লিটে ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উপকূলীয় বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ক্রোয়েশিয়ার দমকল বাহিনীর প্রধান স্লাভকো টুকাকোভিচ দাবানলটিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আগুনে বাড়িঘর, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, গাড়ি ও তীরে রাখা নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ দমকলকর্মীদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। দমকলকর্মীরা অনেক কিছু রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বছরের উষ্ণতম দিন রেকর্ড হওয়ার পর মধ্য ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীদের ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যেতে হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, এ ঘটনায় ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্টোরব্রিজ শহরে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া আগুনে ২০ থেকে ৩০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আইনপ্রণেতা ক্যাট একলস। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনে বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
পশ্চিম জার্মানিতে বেলজিয়াম সীমান্তের কাছে ‘গে’ গ্রামের দিকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় এক হাজার ৮০০ মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ল্যান্ডেস অঞ্চলেও পাইনবনে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানল থেকে বাঁচতে ৫২৫ জন গ্রামবাসীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তা জিলস ক্লাভরুল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার পর আগুন প্রায় এক হাজার ১০০ হেক্টর এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। আগুন লুগলন গ্রামের কেন্দ্রস্থলের দুই কিলোমিটারের মধ্যেও পৌঁছে গেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫০০ দমকলকর্মী ও ছয়টি বিমান কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অনুকূলে নয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আরাগনেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের ঝুঁকির কারণে একটি মঠ থেকে একাদশ শতাব্দীর তিন রাজার দেহাবশেষ সরিয়ে নিতে হয়েছে।
গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী শহর সিভিরিতেও দাবানলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিশু ও পোষা প্রাণী নিয়ে অনেক মানুষ ছোট নৌকা ও ডিঙিতে করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। আগুন বনভূমি গ্রাস করার পাশাপাশি ঘন ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, শহরটি থেকে ৩০০ জনের বেশি মানুষকে নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে তীব্র গরম ও খরার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চলতি বছর ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস ও বলকান অঞ্চল তাপপ্রবাহে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
Posted ৫:১৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah